img

প্রথম দিন থেকেই পাশের বাড়ির মেয়েটিকে কারণে-অকারণে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে, কেমন আছেন? মেয়েটিও মুচকি হেসে এমনভাবে উত্তর দেয়, যেন অনেক দিনের চেনা। অথচ এ বাড়িতে আরও অনেকেই ছিলেন, আছেন। হয়তো তার থেকেও সুন্দরী কেউ! কিন্তু এ মেয়েটির প্রতি ভালো লাগাটা একদমই আলাদা। কেন? তার চোখের চাহনি পরকেও আপন করে নেয়। তার হাসিটা মেকি নয়। তার অভিনয়টা প্রাকৃতিক! অভিনয়? হুম, অভিনয়। যেহেতু তিনি একজন অভিনেত্রী, তাই অভিনয় দিয়েই নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছেন।

নুসরাত ইমরোজ তিশা, শুধু অভিনয় দিয়ে নিজেকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছেন, যেখানে নতুন প্রজন্মের কাছে তিনি আইডল। তার অভিনয় অনুপ্রেরণা জোগায় নতুনদের। নির্মাতারা চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে তার বিকল্প কাউকে ভাবতেও চান না। এ গ্রহণযোগ্যতা তিশা তৈরি করেছেন অনবদ্য এবং মনোমুগ্ধকর অভিনয় দিয়েই।

সর্বশেষ মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ডুব’ এবং তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘হালদা’ চলচ্চিত্রে প্রশংসিত হয়েছেন নন্দিত এ অভিনেত্রী। ফলে গেল বছরের শেষপ্রান্তে তিশা ছিলেন বেশ আলোচনায়। নতুন বছরও শুরু করেছেন আলোচনায় থেকেই। এরই মধ্যে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর নির্দেশনায় ‘শনিবারের বিকেল’ চলচ্চিত্রের শুটিং শেষ করেছেন। এতে তিনি রাইসা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ ছাড়া প্রায় শেষ করেছেন মুকুল রায় চৌধুরীর নির্দেশনায় ‘হলুদবনি’ চলচ্চিত্রের কাজ। ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি আবারও এই চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অংশ নেবেন। এতে তিশার চরিত্রের নাম অনু। এ ছাড়া ২০ মার্চ থেকে তিনি অরিন্দম শীলের নির্দেশনায় ‘বালিঘর’ চলচ্চিত্রের শুটিং শুরু করবেন।

চলচ্চিত্রের বর্তমান প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রের সার্বিক অবস্থা এখন ভালো। আমি আরও আশাবাদী আগামীতে আমাদের চলচ্চিত্রের অবস্থান আরও ভালো হবে এবং অবশ্যই দর্শক বাড়বে। সর্বশেষ আয়নাবাজি, ঢাকা অ্যাটাক, ডুব, হালদা কিন্তু দর্শক হলে গিয়ে উপভোগ করেছেন। আর তারা আনন্দ নিয়েই হলে গিয়েছে, হল থেকে বেরিয়েছে। শুধু চলচ্চিত্রেই নয়, নাটকের দর্শকও আগের চেয়ে অনেকাংশে বেড়েছে। আমি সবসময়ই আমাদের দেশের নাটক, চলচ্চিত্র নিয়ে আশাবাদী।’

পর্দায় যে কোনো চরিত্রে নিখুঁতভাবে উপস্থিত হওয়ার ক্ষেত্রে তিশার জুড়ি মেলা ভার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নিজেকে নিখুঁতভাবে পর্দায় উপস্থাপন করতে চাই। তাই নাটক বলেন আর চলচ্চিত্র বলেন, প্রথমে খুঁজি কাজের জায়গা। গল্পের কতটা জুড়ে আমি আছি, সেখানে নিজেকে মেলে ধরতে পারব কিনা, এসব বিষয় ভেবেই সম্মতি জানাই। এ জন্য খুব বেশি কাজ হাতেও নেই না। তবে একটি দৃশ্য তখনই প্রাণবন্ত হয় যখন সহশিল্পী আপনার কাজের ধরন খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। তাই কাজ করার সময় এমন সহশিল্পীই আশা করি যে আমাকে এবং আমি তাকে সহজে বুঝতে পারি।’

এদিকে আজ তিশার জন্মদিন। জন্মদিন প্রসঙ্গে তিশা বলেন, ‘জন্মদিনে সাধারণত আমার নিজের কোনো পরিকল্পনা থাকে না। সবাই পরিকল্পনা করেন, আমি তা উপভোগ করি। জন্মদিনে সবার কাছে দোয়া চাই যেন আল্লাহ ভালো রাখেন, সুস্থ রাখেন এবং দর্শককে ভালো ভালো কাজ উপহার দিতে পারি।’

এই বিভাগের আরও খবর